|
এবারের বাজেট প্রক্রিয়ার মধ্যে অর্থমন্ত্রী কিছু পদ্ধতিগত পরিবর্তন করেছেন সেটাই সবার আগে চোখে পড়েছে। অর্থমন্ত্রীর উপস্থাপন বৈচিত্র এবং পদ্ধতিগত সংস্কারের বিষয়টা দেখলাম। সর্বাত্মক দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয়েছে তিনি খুব বেশি এ্যডভেঞ্চারাস হননি। এবারের বাজেটে খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রাধান্য পেয়েছে। প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে, বিশেষ করে পাওয়ার সেক্টরে অনেক বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে এখানে মূল সমস্যা হয়েছে যে, বাস্তবায়নের বিশ্বাসযোগ্যতা একটা ইস্যু হিসেবে দাড়িয়েছে। কারণ গত বছরও পাওয়ার সেকশনে অনেক বড় একটা বরাদ্দ ছিল, পিপিপি এর একটা উদ্যোগ ছিল কিন্তু সেগুলো তেমন কোনো ফলাফল নিয়ে আসেনি। সেজন্য এই বিষয়গুলোর ফলাফলের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। মূল্যস্ফীতির বিষয়টা তূলনামূলকভাবে তেমন গুরুত্ব পায়নি। আমার মনে হয় এটা আরো বেশি বিশ্লেষন এবং মনোযোগের দাবী রাখে।
আমি মনে করি প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে আমাদের নীতিনির্ধারকরা তুলনামূলভাবে নিশ্চুপ থাকলেও আমাদের সমাজের উদ্যোগী ব্যক্তিদের উদ্যোগের কারণে সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি এমনিতেই হচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে বিনিয়োগের মাত্রা বাড়াতে হবে। বাজেটের বিনিয়োগের কৌশলগুলো আরো শক্তিশালী করতে হবে। বাজেটে এনার্জি সাবসিটির বিষয়টি বলা হয়েছে যা ভবিষ্যতের একটি বিপদের সম্ভাবনাও তৈরী করেছে। এই বিষয়ে সঠিকভাবে নীতি প্রনয়ণ না করতে পারলে এটা আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই বাজেট আমাদের সহজাত প্রবৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে কিন্তু প্রবৃদ্ধি উল্লম্ফনের বিষয়টি কতটুকু আনবে সেটাই দেখার বিষয়।
|