|
মো: হো: আপনি কি ২০১০-১১ সালের বাজেট বক্তৃতা দেখেছেন?
সৈ: আ: জ্বী, কিছুটা দেখার সুযোগ হয়েছে আমার।
মো: হো: আপনি জানেন যে বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছে। সেই ঘোষণা এই বাজেটে কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে?
সৈ: আ: ধন্যবাদ। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে রূপকল্প ঘোষনা করেছে। সেক্ষেত্রে সরকার ১০টি উদ্দেশ্য এখানে উল্লেখ করেছে। তারমধ্যে ৫৬টি কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং ৩০৬টি কার্যক্রমের উল্লেখ করেছে। সেই ক্ষেত্রে এক বিশাল কর্মযজ্ঞের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যার প্রেক্ষিতে মনে করছে ২০২১ সালের মধ্যে জিডিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিতহবে। কিন্তু গত বছর এর জন্য সরকার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। যার ৯০ কোটি টাকা খরচ করতে পেরেছে এবং ১০ কোটি খরচ করা সম্ভব হয়নি। আবার লক্ষণীয় বিষয় হলো, এবার তার সামান্য অংশ বাড়িয়ে ১১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। আমার প্রশ্ন হলো যে, ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়ার ফলে যেভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষিত হবে (বিশাল কর্মযজ্ঞ) সেক্ষেত্রে এ অংক ১ লক্ষ ৩২ হাজার কোটির মধ্যে যথেষ্ঠ কিনা?
তার পরেও আমি বলব- সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা করার ক্ষেত্রে কিছু উদ্যোগ অবশ্যই নিয়েছে। যেমন ৪ হাজার ৪০৯ টি ইউনিয়ন পরিষদকে ফাইবার অপটিক সংযোগের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। ৮ হাজার স্থানীয় পোষ্ট অফিসকে তথ্য কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এক কোটি ল্যান্ড ফোন কানেকশন নতুন করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
মো: হো: জনাব আরিফুজ্জামান, এই যে ৪ হাজার ৪০৯ টি ইউনিয়ন পরিষদকে ফাইবার অপটিক সংযোগের আওতায় আনা হবে বলা হয়েছে, সেক্ষেত্রে সরকার কতটুকু সফল হবে এবং এই অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগটাকে কতটুকু ব্যবহার করা যাবে বলে আপনি মনে করেন?
সৈ: আ: জ্বী ধন্যবাদ। যে কথাটা আমি বলতে চাচ্ছিলাম। সরকার এই ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে ফাইবার অপটিকস এর আওতায় আনার উদ্দেশ্য হলো ইউনিয়ন পরিষদে
তথ্য ও সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। সেক্ষেত্রে আমরা যদি অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখি ১০০ ইউনিয়ন পরিষদে এ ধরনের তথ্য ও সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সঠিক উদ্যোক্তা নির্বাচন করতে না পারার কারণে বা সে ধরনের প্রস্তুতি না থাকার কারণে খুব ভালোভাবে সেই তথ্যকেন্দ্রগুলো চলছে না। আবার, প্রতিটি ইউনিয়নকে পর্যায়ক্রমে এর আওতায় নিয়ে আসবে। তার জন্য সরকারকে যে কাজটা করতে হবে, এই ইউনিয়ন পরিষদসমূহে সঠিক উদ্যোক্তা নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এবং ইউনিয়ন পরিষদের যে জনবল আছে (আমরা যদি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কথা বলি) তাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে সরকারকে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
মো: হো: ৮০০ গ্রামীণ পোষ্ট অফিসকে যে কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টারে রূপান্তর করতে হবে সে প্রসংগে আপনার মন্তব্য কি?
সৈ: আ: এটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কারণ আমরা যদি এক সময় অতীতের দিকে তাকাই। গ্রামের সাধারণ জনগণ যেগাযোগের মাধ্যম হিসেবে পোস্ট অফিসকেই নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসাবে মনে করতো। এখনো তার বাইরে ব্যাপকভাবে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান এই জায়গা দখল করতে পারেনাই। তবে এইক্ষেত্রে যেটা লক্ষ্যণীয়, পোস্ট অফিসের যে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ রয়েছে তার মধ্যে ৮০০ পোস্ট অফিসকে একসাথে এই ধরনের সেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে কিনা বা পর্যায়ক্রমে সফলভাবে করার পর অন্যান্যগুলোতে গেলে ভালো হতো বলে আমি মনে করি।
মো: হো: এবারের বাজেটের ওপর আপনার সার্বিক মন্তব্য কি?
সৈ: আ:এবারের বাজেটের ক্ষেত্রে আমি যেটা বলব, সরকারের যেমন কিছু ভাল দিক আছে আমি আগেই বলেছি বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু শুধু যদি ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা করা হবে বা প্রতিষ্ঠিত করা হবে সেই লক্ষ্যেই কিছু বরাদ্দ রাখা হয় কাজ করা হয় বা সে বিষয়ে জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হয় আমি মনে করি সে ক্ষেত্রে একটা সময়ে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়বে। যেমন- একটা বিষয় যদি আপনাকে বলি এতগুলো উদ্যোগের মধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি বেশ কিছু মাদ্রাসাকে আইটি বেজড মাদ্রাসায় রূপান্তরিত করা হবে। যে দেশে হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো আইটি বেইজড হয় নাই, সেই ক্ষেত্রে এখনই মাদ্রাসা পর্যায়ে পৌঁছা এটা কি সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য কিনা সেটা আমাদের ভেবে দেখতে হবে।
মো: হো: জনাব আরিফুজ্জামান আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য।
সৈ: আ: জ্বী। আপনাকেও ধন্যবাদ।
|